ঐতিহ্যের তীর্থভূমি সিরাজগঞ্জ

এইচএম আলমগীর কবির | clock১২:০৯ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ০২,২০২০

ঐতিহ্যের তীর্থভূমি সিরাজগঞ্জ

ইতিহাস ও ঐতিহ্যের তীর্থভূমি সিরাজগঞ্জ। যমুনা নদী বিধৌত এ জেলার ভৌগোলিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গন বৈচিত্র্যময়। সিরাজগঞ্জ জেলার দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে বাঘাবাড়ি নদী বন্দর, হার্ড পয়েন্ট, চায়না বাঁধ, নবরত্ন মন্দির, জয়সাগর দীঘি, শাহজাদপুর মসজিদ, ইলিয়ট ব্রিজ, চলন বিল, মখদুম শাহের মাজার, যমুনা বহুমুখী সেতু, বঙ্গবন্ধু স্কয়ার, সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ, ইকোপার্ক পর্যটকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এ জেলা নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন তৈরি করেছেন এইচএম আলমগীর কবির


চলন বিল
চলন বিল (Chalan Beel) বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিল এবং সমৃদ্ধতম জলাভূমিগুলোর একটি। দেশের সর্ববৃহৎ এ বিল বিভিন্ন খাল বা জলখাত দ্বারা পরস্পর সংযুক্ত অনেকগুলো ছোট ছোট বিলের সমষ্টি। বর্ষাকালে এগুলো সব একসঙ্গে একাকার হয়ে প্রায় ৩৬৮ বর্গ কিমি এলাকার একটি জলরাশিতে পরিণত হয়। বিলটি সংলগ্ন তিনটি জেলা রাজশাহী, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ-এর অংশবিশেষ জুড়ে অবস্থান করছে। চলন বিল সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ ও পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলা দুটির অধিকাংশ স্থান জুড়ে বিস্তৃত। এটি নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলা ও গুমনী নদীর উত্তর পাড়ের মধ্যে অবস্থিত। বিলটির দক্ষিণপূর্ব প্রান্ত পাবনা জেলার নুননগরের কাছে অষ্টমনীষা পর্যন্ত বিস্তৃত। এ জেলায় চলন বিলের উত্তর সীমানা হচ্ছে সিংড়ার পূর্ব প্রান্ত থেকে ভদাই নদী পর্যন্ত টানা রেখাটি যা রাজশাহী, পাবনা ও বগুড়া জেলার মধ্যবর্তী সীমানা নির্দেশ করে। ভদাই নদীর পূর্ব পাড়ে অবস্থিত তাড়াশ উপজেলা ও পাবনা জেলা বরাবর উত্তর-দক্ষিণমুখী একটি রেখা টানলে তা হবে বিলটির মোটামুটি পূর্ব সীমানা। বিলটির প্রশস্ততম অংশ উত্তর-পূর্ব কোণে তাড়াশ থেকে গুমনী নদীর উত্তর পাড়ের নারায়ণপুর পর্যন্ত প্রায় ১৩ কিমি বিস্তৃত সিংড়া থেকে গুমনী পাড়ের কচিকাটা পর্যন্ত অংশে এটির দৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি ২৪ কিমি।

শাহজাদপুর মসজিদ
শাহজাদপুর মসজিদ সিরাজগঞ্জ জেলার অন্তর্গত শাহজাদপুর সদরের একেবারে শেষপ্রান্তস্থিত দরগাপাড়ায় হুরাসাগর নদীর পাড়ে অবস্থিত। বিশ্বাস করা হয় যে, পনেরো শতকে প্রখ্যাত সুফীসাধক মখদুম শাহ এ মসজিদ নির্মাণ করেন। কোন লিপি প্রমাণের তারিখ নির্ণয় করা হয়নি। মসজিদের স্থাপত্য রীতি ও অলংকরণ শৈলী ইঙ্গিত দেয় যে, মসজিদটি পনেরো শতকে নির্মিত হয়েছিল। বহুগম্বুজ বিশিষ্ট আয়তাকার মসজিদের তিন সারিতে পাঁচটি করে মোট পনেরোটি গম্বুজ দ্বারা আচ্ছাদিত। মসজিদটির উত্তর-দক্ষিণে দৈর্ঘ্য ১৯.১৩ মিটার এবং পূর্ব-পশ্চিমে প্রস্থ ১২.৬০ মিটার। অভ্যন্তর ভাগে এর দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ যথাক্রমে ১৫.৭৭ মিটার ও ৯.৬০ মিটার এবং দেওয়াল ১.৫৭ মিটার পুরু। এ মসজিদ কিবলা কোঠা দেওয়ালের লম্বে, পাঁচটি স্তম্ভপথে (‘বে’) এবং উত্তর-দক্ষিণে তিনটি স্তম্ভপথে (‘আইল’) বিভক্ত হয়ে মোট পনেরটি চতুষ্কোণাকার এলাকায় বিভক্ত হয়েছে। বর্গাকার নিম্নভাগ থেকে গম্বুজ স্থাপনের জন্য বৃত্ত নির্মিত হয়েছে উপরে পেন্ডেন্টিভের মাধ্যমে। জুল্লাতে রয়েছে দুসারিতে দণ্ডায়মান মোট আটটি কালো ব্যাসাল্ট পাথরের স্তম্ভ। স্তম্ভগুলি মোটামুটি অষ্টভুজাকৃতির এবং এগুলির ভিত ও ক্যাপিটালও বর্গাকৃতির।

পশ্চিম দেওয়ালে রয়েছে চারটি অন্তঃপ্রবিষ্ট মিহরাব; পাঁচটি মিহরাব নেই এই কারণে যে, কেন্দ্রীয় মিহরাবের ডানপার্শ্বে ঠিক একটি মিহরাবের স্থলে মসজিদের একমাত্র দ্বিতল মিম্বরটি অবস্থিত। কেন্দ্রীয় মিহরাবটি অপেক্ষাকৃত বেশি অলংকৃত। পাঁচটি স্তম্ভপথের সঙ্গে সঙ্গতি রক্ষা করে পূর্ব দিকে রয়েছে পাঁচটি প্রবেশপথ।

মসজিদের উত্তর ও দক্ষিণ দেওয়াল তিনটি করে প্যানেলে বিভক্ত, এতে আদিতে প্রবেশপথ থাকলেও বহু পূর্বেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ মসজিদের দেওয়ালে অবিচ্ছেদ্যভাবে নিয়মিত দূরত্বে বারোটি নিমগ্ন স্তম্ভ (pilaster) ও চার কোণে চারটি জোড় স্তম্ভ পাথরে তৈরি এবং খিলানগুলি দ্বিকেন্দ্রিক কৌণিক রীতির।


নবরত্ন মন্দির
সিরাজগঞ্জ জেলায় প্রায় পাঁচশ বছরের পুরানো প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হাটিকুমরুল নবরত্ন মন্দির। জেলার উল্লপাড়া উপজেলার হাটিকুমরুল ইউনিয়নে এই মন্দিরের অবস্থান।

তিন তলাবিশিষ্ট এই মন্দিরের চারপাশের দেয়ালে পোড়ামাটির অলঙ্করণে ভরপুর, বাইরে থেকে দেখতে অনেকটাই কান্তজির মন্দিরের মতো। স্থানীয়ভাবে দোলমঞ্চ নামে পরিচিত এটাই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় নবরত্ন মন্দির। পূজার ছুটিতে ঘুরে আসতে পারেন অনিন্দ্য সুন্দর এই প্রত্নস্থল থেকে।

সিরাজগঞ্জ-বগুড়া মহাসড়কের হাটিকুমরুল বাস স্টেশন। দুইপাশের ধান ক্ষেতের বুক চিড়ে সেখান থেকে ছোট্ট একটি মেঠো পথ আঁকাবাঁকা চলে গেছে উত্তর পূর্ব দিকে। এই পথে প্রায় এক কিলোমিটার গেলেই দেখা মিলবে পোড়ামাটির কাব্যে গাঁথা অনন্য এক প্রত্নতাত্ত্বিক নির্র্দশন। বাংলাদেশে প্রাচীন যেসব হিন্দু মন্দির দেখতে পাওয়া যায় সেগুলোর অন্যতম একটি এই হাটিকুমরুল নবরত্ন মন্দির। নির্মাণশৈলীর দিক থেকে উঁচু একটি বেদীর ওপর নবরত্ন পরিকল্পনায় নির্মিত মন্দিরের প্রতিটি বাহুর দৈর্ঘ্যে ১৫.৪ মিটার এবং প্রস্থে ১৩.২৫ মিটার। ক্রমহ্রাসমান তিনতলা বিশিষ্ট তিল তলা বিশিষ্ট এই স্থাপনার উপরের রত্ন বা চূড়াগুলো প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। মূল মন্দিরের বারান্দায় সাতটি এবং ভেতরের দিকে পাঁচটি প্রবেশপথ আছে। দ্বিতীয় তলায় কোনো বারান্দা নেই।

হাটিকুমরুল নবরত্ন মন্দির তিন তলাবিশিষ্ট। মূল মন্দিরের আয়তনে ১৫ বর্গমিটারেরও বেশি। একসময়ে মন্দিরে নয়টি চূড়া ছিল বলে নবরত্ন মন্দির হিসেবে পরিচিতি পায়। পুরো মন্দিরের বাইরের দিক পোড়া মাটির অলঙ্করণে ঢাকা। এসব অলঙ্করণে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে নানান দেবদেবীর মূর্তি, লতা-পাতা ইত্যাদি।


শিব মন্দির
তাড়াশে দর্শনীয় স্থানের অভাব নেই। এখানকার অন্যতম আকর্ষণ হলো- রাধা গোবিন্দ মন্দির, শিব মন্দির, মথুরা দিঘী, বড় কুঞ্জবন, উলিপুরের দিঘী, শিশু পার্ক, বৌদ্ধ বিহার। শরতের শেষের দিকে শুরু হয় দুর্গাপুজা। তখন তো এখানকার গোবিন্দ মন্দিরে বাজে অবিরাম ঢোলবাদ্য, আকাশে ওড়ে রঙ্গিন ফানুস। কীর্তন গান পুরো এলাকার আকাশবাতাস মাতিয়ে রাখে। আর তাড়াশে চারিদিকে ফুটে থাকে কত না কাশফুল। তাড়াশে বেড়াতে এসে জানা যাবে এখানকার বিখ্যাত কপ্লিশ্বের শিব মন্দির (Shiv Mandir), দেবী মন্দির, বাসুদেব ও গোপীনাথ বিগ্রহের মন্দিরের কাহিনি।


বঙ্গবন্ধু যমুনা ইকোপার্ক
সিরাজগঞ্জ জেলার একমাত্র বিনোদন কেন্দ্রের নাম বঙ্গবন্ধু যমুনা ইকোপার্ক (Bangabandhu Jamuna Eco Park)। বন বিভাগ বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম পাড়ে প্রায় ১২০ একর জায়গা নিয়ে ২০০৭ সালে বঙ্গবন্ধু যমুনা ইকোপার্ক প্রতিষ্ঠা করে। সবুজ বৃক্ষে আচ্ছাদিত পার্ক থেকে যমুনা নদী এবং বঙ্গবন্ধু সেতুর অপূর্ব দৃশ্য দেখা যায়। শান্ত-সুনিবিড় ছায়া ঘেরা অনন্য প্রাকৃতিক পরিবেশের জন্য বঙ্গবন্ধু যমুনা ইকোপার্কে ক্রমশই দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়ছে। বঙ্গবন্ধু যমুনা ইকোপার্কে বিভিন্ন প্রকার ফলজ, বনজ এবং ঔষধি গাছের মধ্যে রয়েছে আম, পেয়ারা, রড়ই, আমলকি, ডেউয়া, ডুমুর, কাঠাল, জলপাই, জাম, তেঁতুল, আকাশমনি, ইপির-ইপিল, আরোকেরিয়া, বকুল, শিমুল, জৈয়তন, জারুল, মহুয়া, নাগেশ্বর, করবী, কাঞ্জলভাদি, টেবুবিয়া, অর্জুনসহ জানা অজানা অসংখ্য বৃক্ষ। সবুজ গাছের সমারোহ ছাড়াও এখানে আরও আছে কাঠবিড়ালি, নানা প্রকার পাখি, হরিণ, ময়ূর, সাজারু, খরগোশ এবং বানর।


যমুনা সেতু
সিরাজগঞ্জ জেলা বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রাজশাহী বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল। তাঁতশিল্প এ জেলাকে বিশ্বের দরবারে পরিচিত করেছে। বঙ্গবন্ধু সেতু (যমুনা সেতু) (Jamuna Setupar) এবং সিরাজগঞ্জ শহররক্ষা বাঁধের অপূর্ব সৌন্দর্য এ জেলাকে পর্যটনসমৃদ্ধ জেলার খ্যাতি এনে দিয়েছে। তা ছাড়া শাহজাদপুর উপজেলার রবীন্দ্র কাঁচারিবাড়ি, এনায়েতপূর খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল, মিল্কভিটা, বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম প্রান্তের ইকোপার্ক, বাঘাবাড়ি বার্জ মাউনন্টেড বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ইত্যাদি বিখ্যাত স্থাপত্য ও শৈল্পকর্মের নিদর্শন এ জেলাকে সমৃদ্ধতর করেছে।

যমুনা বহুমুখী সেতু বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার ৫ম এবং বিশ্বের ৯২তম দীর্ঘ সেতু। ১৯৯৮ সালের জুন মাসে এটি উদ্বোধন করা হয়। বাংলাদেশের ৩টি বড় নদীর মধ্যে বৃহত্তম এবং পানি নির্গমনের দিক থেকে বিশ্বের পঞ্চম বৃহৎ নদী যমুনার উপর এটি নির্মিত হয়েছে। বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর নামানুসারে সেতুটির নামকরণ করা হয়। বঙ্গবন্ধু সেতু বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে দুই অংশকে একত্রিত করেছে। এই সেতু নির্মাণের ফলে জনগণ বহুভাবে লাভবান হচ্ছে এবং এটি আন্তঃআঞ্চলিক ব্যবসায় ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। সড়ক ও রেলপথে দ্রুত যাত্রী ও মালামাল পরিবহন ছাড়াও এই সেতু বিদ্যুৎ ও প্রাকৃতিক গ্যাস সঞ্চালন এবং টেলিযোগাযোগ সমন্বিত করার সুযোগ করে দিয়েছে। টাঙ্গাইল থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত বিস্তৃত এই সেতু এশীয় মহাসড়ক ও আন্তঃএশীয় রেলপথের উপর অবস্থিত।


জয়সাগর দীঘি
জয়সাগর দীঘি প্রাচীন ইতিহাসের সাক্ষী, বাংলাদেশের সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ উপজেলায় বেশ কয়েকটি প্রাচীন ঐতিহাসিক স্থান রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম ঐতিহাসিক ও প্রাচীন সাগরদীঘি। প্রাচীনকালে দীঘিটির দৈর্ঘ্য ছিল আধা মাইল, প্রস্থ ছিল আধা মাইল এর কিছু কম, অর্থাৎ আয়তন প্রায় ৫৮ একর ছিল। এটি তাড়াশ থেকে ছয় মাইল উত্তর পূর্বে নিমগাছি হাটের পশ্চিমে অবস্থিত।

৪ পারে ২৮টি বাধা ঘাট দিয়ে জয়সাগর দীঘি তৈরি করা হলেও, বর্তমানে এ ঘাটের কোনো চিহ্ন নেই। বল্লাল সেনের বংশধর রাজা অচ্যুত সেনের দুর্গ ও সেনানিবাস ছিল এই দীঘির পারে, এখন তা বিলুপ্ত হয়েছে গেছে। জয়সাগর দীঘি ছাড়াও রাজা অচ্যুত সেন তার সেনাপতি প্রতাপের নামে, প্রতাপ দীঘি, ভৃত্য উদয়ের নামে উদয় দীঘি এবং কন্যা ভদ্রাবতির নামে ভদ্রা দীঘি খনন করেন। বর্তমানে জয়সাগর দীঘিতে চলছে মাছের চাষ। বিভিন্ন ধরনের মাছের চাষ করা হয় এই জয়সাগর দীঘিতে। ফিশারির কাছ থেকে লিজ নিয়ে এলাকার মানুষজন এই মাছ চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করছে। ব্যস্ত জীবনের ফাঁকে একটু সুযোগ করে ঘুরে আসতে পারেন, প্রাচীন ইতিহাসের সাক্ষী সাগরদীঘি থেকে।


চায়না বাঁধ
দুইপাশে নদী আর মাঝখানে সবুজ ঘাসের গালিচায় বসে অপূর্ব প্রকৃতিকে উপভোগ করতে চাইলে সিরাজগঞ্জ জেলায় অবস্থিত চায়না বাঁধ (ঈযরহধ উধস) থেকে ঘুরে আসতে পারেন। সিরাজগঞ্জ জেলা শহর থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার দূরে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড যমুনা নদীর কূলে এই বাঁধ নির্মাণ করে।

চায়না বাঁধের অন্য নাম ক্রসবার-৩। বাঁধের মূল গেট থেকে যমুনা নদীর ২ কিলোমিটার গভীর পর্যন্ত বাঁধের ওপর দিয়ে চলে গেছে কালো পিচ ঢালা রাস্তা। আর এই রাস্তা ধরে বাঁধের শেষ প্রান্তে যাওয়া যায়। প্রতিদিন অনেক দর্শনার্থী চায়না বাঁধে ঘুরতে আসেন। অসীম আকাশের সঙ্গে নদীর জলের গভীর মিতালীতে তৈরি চারপাশের অপূর্ব প্রাকৃতিক পরিবেশ, নৌকা ভ্রমণ এবং অল্প দূরত্বে থাকা ছোট্ট সিরাজগঞ্জ শহর যেন এক অদ্ভুত মায়ায় দর্শনার্থীদের কাছে টেনে নেয়। আর সবচেয়ে ভালো লাগবে বর্ষাকালে গেলে।


এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ